রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

শেখ হাসিনা-আজিজসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ ররিপোর্টার : ২০০৯ সালে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় মামলার আসামী বিডিআরের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহিমের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের নামে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তারুজ্জামানের আদালতে মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ এই মামলার আবেদন করেন। এসময় বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক ও সাবেক সেনাপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পিলখানা বিদ্রোহ মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজলসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় অন্য আসামীরা হলেন সাবেক কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সংসদ সদস্য শেখ সেলিম, নুর আলম চৌধুরী লিটন, শেখ হেলাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, হাসানুল হক ইনু ও ২০১০ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার এবং চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম।

বাদীর আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১০ সালের ২৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে আসামীরা হত্যা করেন। এ ঘটনায় তখন চকবাজার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। আজ আদালত আমাদের মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চকবাজার থানার সেই অপমৃত্যু মামলার নথি তলব করেন। আজকের আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। মামলায় বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সরকার ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সুপরিকল্পিতভাবে বিদেশি এজেন্ট নিয়োগ করে à§«à§­ জন সেনা অফিসারসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। পরে বিডিআর বিদ্রোহের অভিযোগে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।  বাদী অভিযোগ করেন, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম ডিএডি হিসেবে পিলখানায় কর্মরত ছিলেন। তাকেও বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় আসামী করে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আসামীরা পরিকল্পিতভাবে কারাগারে হত্যা করেন।

সাঁজোয়া যান থেকে ছুঁড়ে ফেলা শিক্ষার্থীর মৃত্যু : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলীবিদ্ধ এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ছুঁড়ে ফেলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। পরে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর নাম শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন। তিনি ঢাকার সাভারে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী। ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে এ মামলা করেন নিহতের মামা আব্দুল্লাহ আল কাবির। আদালত বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে সাভার থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষে মামলা করেন অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান মারুফ ও সাকিল আহমাদ। সাকিল আহমাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামীরা হলেন-সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন, ঢাকার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ ও ট্রাফিক, উত্তর বিভাগ) আব্দুল্লাহিল কাফী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুর রহমান, সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজামান সাভার থানা, সাভার থানার উপপরিদর্শক সুদীপ, হারুন অর রশিদ ও সাব্বির, সাভারের আন্দোলনে গুলী করে ভাইরাল হওয়া নড়াইলের বাবুল শরিফ (নারী পুলিশ সদস্যের স্বামী), সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব ও ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত à§§à§® জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে। তারা শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে বুকের বাঁ পাশে গুলী করে। গুলীতে ইয়ামিনের বুকে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। এ অবস্থায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে আন্দোলনরত ছাত্র–জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি এ পাশ থেকে ওপাশ প্রদক্ষিণ করতে থাকে। এরপর ইয়ামিনকে প্রায় মৃত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেয় এবং একজন পুলিশ সদস্যকে তাঁর পায়ে আবার গুলীর নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলী না করে রাস্তার ওপরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে রোড ডিভাইডারের পাশে ফেলে দেয়।  গুলীবিদ্ধ শাইখ ইয়ামিনকে তখনো সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্বাস নিতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্যরা ধরাধরি করে উঁচু রোড ডিভাইডারের একপাশ থেকে আরেক পাশে তাঁকে ছুড়ে ফেলে দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা : অটোরিকশাচালক বাবু মোল্লাকে গুলী করে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের ভগ্নিপতি মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দী রেকর্ড শেষে এ মামলার আবেদনটি হাতিরঝিল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। এ মামলার উল্লেখযোগ্য অপর আসামীরা হলেন, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. ওয়াকিল উদ্দিন। এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই বাবু মোল্লা তার ভগ্নিপতি মাসুদ রানার সঙ্গে জুম্মার নামাজ পড়তে যান। পরে নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে আসামীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে গুলীবিদ্ধ হয়ে হত্যাকা-ের শিকার হন।

শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে 

নরসিংদীতে আরো একটি হত্যা মামলা

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আসামী এবং অজ্ঞাত আরো à§© থেকে সাড়ে তিনশত লোককে আসামী করে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার রাজাবাড়িয়া গ্রামের মামুদ আলীর ছেলে মোঃ আঙ্গুর মিয়া। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জামান (১৭) নরসিংদীর মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আন্দোলনকারীদের সাথে অবস্থান করছিল। তৎকালীন সরকারের দমন পীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা। এসময় আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা ৩০০/৩৫০ জন সন্ত্রাসী উপরোক্ত শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে বেআইনী জনতাবদ্ধে হাতে লাঠিসোঁঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও এলোপাতাড়িভাবে গুলীবর্ষণ শুরু করে। অজ্ঞাতনামা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছোড়া একাধিক গুলীতে জামান (১৭) এর পেটসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে বিদ্ধ হয়। স্থানীয় লোকজন তাহাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়া ভর্তি করে। পরবর্তীতে তাহার অবস্থার অবনতি হইলে জামানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুলাই সকালে জামান মৃত্যুবরণ করে।

নিহত জামান মাধবদীর ভগিরথপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে শ্রমিকের কাজ করতো এবং সে মামলার বাদীর শ্যালক বলে আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নরসিংদীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হক এজাহার হিসেবে মামলাটি গ্রহণ করার জন্য মাধবদী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ